Synthia Tahsin
বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ আমাদের অনেকের স্বপ্নচূড়ার একটি অংশ। এই স্বপ্ন পূরণে প্রধান অন্তরায় হল নিজের জন্য ফান্ড/ স্কলারশিপ এর ব্যবস্থা করা। বিদেশের বিভিন্ন স্কলারশিপ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকলেও আমরা অনেকেই জানি না যে আমাদের বাংলাদেশও এই ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। তারই উদাহরণ হল প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ। প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ হচ্ছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত “টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে জনপ্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ” প্রকল্পের আওতায় প্রদত্ত আর্থিক সহযোগিতা যা বাংলাদেশের নাগরিকদের উচ্চশিক্ষা (পিএইচডি এবং মাস্টার্স) সম্পন্ন করার জন্য দিয়ে থাকে।
প্রথমত মনে প্রশ্ন জাগতে পারে এই ফেলোশিপের সুযোগ সুবিধা কতটুকু?
এর উত্তর অবশ্যই চমকে দেবার মত!!
কারণ এই ভাতার মধ্যে পূর্ণ টিউশন ফি, প্রাথমিক সংস্থাপন ব্যয়, জীবনধারণ ভাতা, অন্যান্য ভাতা স্বরুপ মাস্টার্স কোর্সে সর্বোচ্চ ৬০ লক্ষ টাকা এবং পিএইচডিতে ২ কোটি টাকা প্রদান করা হবে। এশিয়া, আমেরিকা, ইউরোপ সহ বিভিন্ন মহাদেশের আরো ৪০ টির অধিক দেশের জন্য এই ফেলোশিপ প্রযোজ্য।তবে দেশভেদে ফেলোশিপ ভাতার তারতম্য হতে পারে।
কিন্তু এই ফেলোশিপ অর্জন করে নেওয়া মোটেও সহজ কাজ নয়। যে বিশ্ববিদ্যালয় আপনি গন্তব্যস্থল হিসাবে নির্ধারণ করবেন, তা সর্বশেষ প্রকাশিত The Times Higher Education World University overall Rankings অনুসারে মাস্টার্সের জন্য ১ থেকে ২০০ এবং পিএইচডির জন্য ১ থেকে ১০০ এর মধ্যে থাকতে হবে। চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচনের জন্য মানদন্ড হিসাবে আরো রয়েছে মৌখিক পরীক্ষা, প্রার্থীর কর্মের সাথে এসডিজি অর্জনে সরকারী নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে সম্পৃক্ততা, চাকুরিকাল, বিগত পরীক্ষাসমূহের ফল ইত্যাদি। এছাড়াও আবেদন করতে প্রয়োজন হয় Statement of Purpose যা ইংরেজি অনধিক ১০০০ শব্দের মধ্যে লিখতে হবে, সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণস্বরূপ ট্রান্সক্রিপ্ট, জাতীয় পরিচয় পত্র, পাসপোর্ট ইত্যাদি। IELTS এর নূন্যতম স্কোর হতে হবে ৬.৫ অথবা TOEFL iBT এর স্কোর নূন্যতম ৮৮ অথবা PTE Academic স্কোর হতে হবে নূন্যতম ৫৯। নির্বাচন প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয় তিন ধাপে – আবেদন এবং সংযুক্ত দলিলাদি বাছাইকরণ, প্রাথমিক নির্বাচন এবং চূড়ান্ত নির্বাচন। আবেদনের সময় সর্বোচ্চ বয়সসীমা হতে হবে পিএইচডির জন্য ৪৫ বছর এবং মাস্টার্সের জন্য ৪০ বছর। আবেদন করার জন্য ফেলোশিপের ওয়েবসাইট এ প্রবেশ করে অবশ্যই Eligibility Test এ উর্ত্তীণ হতে হবে।
অন্যান্য ফেলোশিপের মতই এতেও কিছু শর্তাবলি রয়েছে। এই শর্তাবলির মাঝে অন্যতম হল আপনাকে অবশ্যই অধ্যয়ন শেষে দেশে ফিরে দুই বছর কর্মজীবন অতিবাহিত করতে হবে। অন্যথায় ফেলোশিপ বাবদ গৃহীত সমুদয় অর্থ সরকারকে ফেরত দিতে বাধ্য থাকবেন। অন্য কোন সরকারি/ বেসরকারি/ আন্তর্জাতিক বৃত্তি/ফেলোশিপ প্রাপ্ত প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন না। যারা ইতিপূর্বে বিদেশে মাস্টার্স অথবা পিএইচডি করেননি তারা এই ফেলোশিপের আওতায় আবেদন করতে পারবেন।যদি কেউ ইতোমধ্যে বিদেশে মাস্টার্স করে থাকেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপের অধীনে মাস্টার্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন না, কিন্তু পিএইচডির জন্য আবেদন করতে পারবেন; পিএইচডি সম্পন্ন করে ফেললে তিনি এই ফেলোশিপের জন্য আবেদন করার জন্য বিবেচিত হবেন না।উপরন্তু, পিএইচডি কোর্সে আবেদনকারীকে নূন্যতম মাস্টার্স ডিগ্রী ধারী এবং মাস্টার্স কোর্সে আবেদনকারীকে স্নাতক ডিগ্রীধারী হতে হবে।
আরো বলে রাখা প্রয়োজন যে, বিসিএস, নন বিসিএস সরকারি ও বেসরকারি তিন গ্রুপে আবেদনকারীদের নিকট হতে আবেদন গ্রহণ করা হয়; যার মধ্যে বিসিএস কর্মকর্তাগণ ৭০%, বিসিএস ব্যাতীত অন্য সরকারি কর্মকর্তা ২০%, বেসরকারি কর্মকর্তাগণ ১০% হারে নির্বাচিত হবেন।ফেলোশিপ প্রাপ্তির পর বিশ্ববিদ্যালয়, বিষয় পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই এবং কোন ভাবেই ফেলোশিপের সময় বৃদ্ধি বা পরিবর্তন করা যাবে না।
কিছুটা কঠিন শর্তাবলি থাকলেও বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে দেশের এই সহযোগিতা অনস্বীকার্য। এই বছরের জন্য অনলাইনে আবেদনের শেষ সময় ০৭ এপ্রিল ২০২১, বাংলাদেশ স্থানীয় সময় বিকাল ০৫:০০টা। এই ফেলোশিপ গ্রহণের একটি সঠিক সিদ্ধান্ত আপনাকে নিয়ে যেতে পারে আপনার স্বপ্নপূরণের আরো সন্নিকটে। অবশ্যই আবেদনের আগে সব শর্তাবলি পড়ে নেওয়ার অনুরোধ রইলো। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের যে কোন সহযোগিতায় সবসময় Shabash Fakibaj (সাবাস ফাঁকিবাজ™ LLC) পাশে পাবেন। উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত যে কোন জিজ্ঞাসায় আমাদের ই-মেইল করুন emailus@shabashfakibaj.com ঠিকানায়। অনেক শুভকামনা রইলো ভবিষ্যতের জন্য।