Muntasir Mamun
উচ্চশিক্ষার এক দীর্ঘ ভ্রমনযাত্রায় আমাদের দেশীয় শিক্ষার্থীদের কাছে আইইএলটিএস মূর্তিমান বিভীষিকাস্বরুপ। ছাত্রজীবনে তৈরি হওয়া ইংরেজিভীতি এই পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। অথচ শিক্ষাজীবনের একটা দীর্ঘসময়, কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সময় জুড়ে আমরা এই ভাষাটিকে আয়ত্ত করার জন্যে পড়ালেখা করি। এতো লম্বা সময় নিয়ে পড়াশোনা করার পরও একটি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে না পারা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এবং পাঠ্যসূচীর অসারতাকেই নির্দেশ করে। আইইএলটিএস এর চারটি মডিউলের মধ্যে “রাইটিং” সেকশনটি অন্যতম ভীতিজাগানিয়া । শৈশবকাল থেকেই মুখস্তবিদ্যার উপর অতিমাত্রায় নির্ভরতা এবং “ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং”- এর প্রতি উদাসীনতা এই ভীতি সৃষ্টির কারন। তবে সঠিক নির্দেশনা এবং পর্যাপ্ত অনুশীলনের মাধ্যমে এই সেকশনেও ভালো ব্যান্ড স্কোর করা সম্ভব।
আইইএলটিএস রাইটিং মডিউলটির দুইটি অংশ থাকে। এই অংশ দুইটিকে “টাস্ক” বলা হয়ে থাকে। দুইটি টাস্ক শেষ করার জন্যে সময় দেওয়া হয় ৬০ মিনিট। প্রশ্নে আপনাকে ২০ মিনিট সময়ের মাঝে প্রথম টাস্ক এবং বাকি ৪০ মিনিট সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় টাস্কটি শেষ করার সাজেশন দেওয়া হবে । তবে এক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীর নিজস্ব স্বাধীনতা রয়েছে। আপনি চাইলে নিজের সুবিধামত সময়ভাগ করে নিতে পারেন। আইইএলটিএস রাইটিং এ ব্যান্ড স্কোর ৯ এর ভেতর নাম্বার দেওয়া হয়। প্রতিটি টাস্ককে আলাদাভাবে ৯ এর ভেতর স্কোর দেওয়া হয়। টাস্ক – ১ এর ৩৩ শতাংশ, টাস্ক- ২ এর ৬৬ শতাংশ নিয়ে গড় করে আইইএলটিএস রাইটিং ব্যান্ড স্কোর নির্ধারন করা হয়।
রাইটিং টাস্ক- ১ মূলত তথ্য বিশ্লেষণমূলক হয়ে থাকে। কিছু গ্রাফ, চার্ট, টেবিল, লাইন গ্রাফ, বার গ্রাফ, পাই চার্ট অথবা যেকোন ফিগারের মাধ্যমে ডাটা রিপ্রেজেন্ট করা হয়। উল্লেখিত ধরনগুলোর পাশাপাশি “সিকুয়েনশিয়াল ইভেন্ট” নামক একটি প্রশ্নও আসতে দেখা যায়। ধারাবাহিক কয়েকটি ছবি পাশাপাশি দেখিয়ে একটি ঘটনা বা প্রসেসকে বর্ননা করতে বলা হয়ে থাকে এই ধরনের প্রশ্নে। রাইটিং টাস্ক- ১ এর নির্ধারিত ন্যূনতম শব্দসংখ্যা ১৫০। শব্দসংখ্যা গননার উপর অনেক ভিডিও/ ব্লগ অনলাইনে পাওয়া যায়। সেখান থেকে ওয়ার্ড কাউন্ট বা শব্দসংখ্যা গণনা করার পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। ওয়ার্ড কাউন্ট আইইএলটিএস রাইটিংয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারন শব্দসংখ্যা উল্লেখিত সংখ্যা থেকে কম হয়ে গেলে প্রাপ্ত ব্যান্ড স্কোর থেকে পেনাল্টি দিতে হয়। তাই নিরাপদ থাকার জন্যে ১৭০ – ১৮০ শব্দ লেখার অনুশীলন করা উচিত। টাস্ক-১ বা ২ লেখার কোন উর্ধসীমা নেই। তবে যেহেতু একটি নির্দিস্ত সময়ের মাঝে আপনাকে লেখাটি শেষ করতে হবে, তাই একটি নির্দিষ্ট কলেবর মেনে পরিকল্পনামাফিক আগানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে। টাস্ক- ১ এর মার্কিং চারটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। ১) Task achievement 2) Cohesion & Coherence 3) Lexical resource 4) Grammatical Range & Accuracy। প্রতিটি অংশের নাম্বার বণ্টন সুষম হয়, তাই ভালো একটি ব্যান্ড স্কোর করতে চারটি বিষয়ের উপরই নজর দেওয়া বাঞ্ছনীয়।
টাস্ক- ২ সাধারনত রচনামূলক হয়ে থাকে। টাস্কটি অপিনিয়ন, ডিসকাশন, এডভান্টেজ/ ডিসএডভান্টেজ, সলুশন, উভয়পক্ষ বিশ্লেষণ, উভয়পক্ষ বিশ্লেষণ সাপেক্ষে নিজস্ব মতামত প্রদান অথবা সরাসরি প্রশ্নজাতীয় হয়ে থাকে । রাইটিং টাস্ক- ২ এর ন্যূনতম শব্দসংখ্যা ২৫০ । টাস্ক- ১ এর মত এখানেও সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য ২৭০-২৮০ শব্দের মাঝে শেষ করার অনুশীলন করা উচিত। শব্দসীমার নিচে লেখা হলে প্রাপ্ত ব্যান্ড স্কোর থেকে পেনাল্টি দিতে হয়। টাস্ক – ২ তে টাস্ক – ১ এর মতই চারটি বিষয়ের উপর মার্কিং করা হয়। Cohesion & Coherence, Lexical resource, Grammatical Range & Accuracy – এই তিনটি বিষয় এক থাকলেও টাস্ক – ২ এ টাস্ক এচিভমেন্টের বদলে “Task Response” টার্মটি ব্যবহার করা হয়। “Task achievement” হল প্রশ্নে প্রদত্ত তথ্য/ উপাত্ত গুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ, আবার “Task response” হল উপযুক্ত যুক্তিপ্রদান সাপেক্ষে নিজের উত্তরের যথার্থতা সমর্থন করা।
আইইএলটিএস প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে লিসেনিং, রিডিং, স্পিকিং এ যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, রাইটিং এর ক্ষেত্রে অনেকেই ততটা গুরুত্ব দেন না। রাইটিং সেকশনের কম ব্যান্ড স্কোর অভারঅল ব্যান্ড স্কোরে বেশ বিরুপ প্রভাব ফেলে। ফলশ্রুতিতে অনেকেই প্রত্যাশিত ব্যান্ড স্কোর তুলতে সক্ষম হন না। এই পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য প্রয়োজন সঠিক পদ্ধতিতে বেশি বেশি অনুশীলন করা।
বিষয়বস্তু বা কন্টেন্টের উপর ভিত্তি করে আইইএলটিএস রাইটিং টাস্ক ১ এবং ২ কে কয়েকটি প্যারাগ্রাফে ভাগ করে লিখতে হয়। এই প্যারাগ্রাফের সর্বনিম্ন সংখ্যা ৪ টি । সবগুলো প্যারাগ্রাফকে তিনটি প্রকারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১) ইন্ট্রডাকশন বা ভূমিকা ২) ওভারভিউ বা সামারি ৩) বডি প্যারাগ্রাফ। ইন্ট্রডাকশন , ওভারভিউ বা সামারি এবং বডি প্যারাগ্রাফ একটি করে থাকা বাধ্যতামূলক। তবে বডি প্যারাগ্রাফের সংখ্যা ২ টি থেকে ৩ টি, ক্ষেত্রেবিশেষে এর বেশিও লেখা যায়। বডি প্যারাগ্রাফ ২ টি লেখার অনুশীলন করা উত্তম। এতে করে যেমন অনেকগুলো প্যারাগ্রাফের মাঝে সামঞ্জস্য রক্ষা করা শুবিধাজনক হয় আবার সময়ের মাঝে লেখা শেষ করাও সহজ হয়। অভারভিউ বা সামারি প্যারাগ্রাফটিকে কোন কোন ট্রেইনার ইন্ট্রডাকশন প্যারার পরেই লিখতে বলেন, আবার কেউ একেবারে সবার শেষে লিখতে পরামর্শ দেন। দুইটি পদ্ধতিই গ্রহণযোগ্য।
ইন্ট্রডাকশন প্যারাটি মূলত লেখার প্রসঙ্গ বা প্রেক্ষাপট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তাই এই অংশে মূলত অর্থ ঠিক রেখে প্রদত্ত প্রশ্নটিকেই একটু ঘুরিয়ে লেখা হয়। এই “একটু ঘুরিয়ে” লেখাকে “প্যারাফ্রেজিং” করা বলা হয়। এখানে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যেন প্রেক্ষাপট তৈরি করতে যেয়ে প্রশ্নের সাথে হুবহু মিল রেখে কিছু লেখা না হয়। প্রশ্নের সাথে মিলে গেলে সেটি ওয়ার্ড কাউন্ট এর বাইরে বিবেচনা করা হবে। দুইটি টাস্কের ক্ষেত্রেই ভূমিকা বা ইন্ট্রডাকশন অংশে প্যারাফ্রেজিং এর ব্যবহার করে লেখার মান বৃদ্ধি করা যায়। প্যারাফ্রেজিং এর জন্য সমর্থক শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে, জটিল বা মিশ্র বাক্য তৈরি করা যেতে পারে। এই অংশটি দুই লাইন বা ৩০ – ৪০ শব্দের বেশি না হওয়াই বাঞ্ছনীয়।
বডি প্যারাগ্রাফ দুইটির জন্য টাস্ক ১ এবং ২ এর প্রশ্নটিকে মনে মনে দুইটি ভাগে ভাগ করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ধরা যাক, টাস্ক – ১ এ একটি বার চার্টে ৫ বছরের বিরতিতে দুইটি দেশের ২৫ বছরের শিশু মৃত্যুহার এর তুলনা দেওয়া রয়েছে । ২৫ বছর সময়ে ৫ বছর বিরতিতে প্রদত্ত ৬ টি তথ্যকে দুই ভাগে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। দুইটি বডি প্যারাতে দুইটা আলাদা ভাগ নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। তবে কিভাবে আপনি প্রদত্ত তথ্য/উপাত্ত গুলোকে ভাগ করবেন, সেটি নির্ভর করবে সম্পূর্ণ আপনার উপর। যেকোন প্যারামিটারের ভিত্তিতেই এই বিভাজন করা যেতে পারে। একই কথা প্রযোজ্য হয় টাস্ক -২ এর ক্ষেত্রেও । তবে এখানে বিভাজন করা টাস্ক – ১ এর তুলনায় সহজ। কারন এখানে সাধারনত সুবিধা- অসুবিধা, মতামত, সমাধান , উভয় পক্ষ আলোচনা– এই জাতীয় প্রশ্ন করা হয়। তাই একটি বডি প্যারাতে সুবিধা নিয়ে কথা বললে অন্যটিতে অসুবিধা নিয়ে কথা বলুন। একটিতে কোন যুক্তির পক্ষে কথা বললে অন্যটিতে বিপক্ষে কথা বলুন। এভাবে নিজের মত প্যারা ভাগ করে নিলে লিখতে যেমন শুবিধা হবে, পরীক্ষকের পক্ষে নাম্বারিং করাও সহজ হবে। উপরন্তু, ভালো ব্যান্ড স্কোর পাওয়া সম্ভব হবে। টাস্ক -১ এর প্রতিটি বডি প্যারাগ্রাফ ৫০- ৭০ শব্দের মাঝে হওয়া উত্তম এবং টাস্ক – ২ এর ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি ৮০ – ১০০ হলে ভালো হয়।
অভারভিউ বা সামারি প্যারাগ্রাফে মূলত সমগ্র লেখার সারসংক্ষেপ লিখতে হবে। সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ। প্যারাটি কিন্তু কনক্লুশন না উপসংহার জাতীয় প্যারা না। তাই উপসংহার মূলক কিছু লেখা থেকে বিরত থাকুন। টাস্ক – ১ এর ক্ষেত্রে হয়ত অনেক বেশি উল্লেখযোগ্য কোন ডাটা নিয়ে কথা বলতে পারেন। হয়ত এমন কোন ডাটা যেখানে পরিবর্তনের হার সবথেকে বেশি অথবা সবথেকে কম। টাস্ক – ২ এর ক্ষেত্রে এই অংশটি পূর্বে উল্লেখিত “টাস্ক রেস্পন্স” অংশটি সম্পন্ন করতে ব্যবহার করুন। প্রশ্নে যদি আপনার মতামত চাওয়া হয়, তবে আপনার মতামত দিন। প্রশ্নে যদি উভয়পক্ষ বিবেচনায় কোন পক্ষকে আপনি সমর্থন করেন- এমন কিছু জানতে চাওয়া হয় সেক্ষেত্রে আপনার সিদ্ধান্ত জানান। ইন্ট্রডাকশন প্যারার মত এই প্যারাটিও ৩০ -৪০ শব্দের বেশি না হওয়া ভালো।
উপরোক্ত গঠন অনুসরণ করে বেশি বেশি অনুশীলন করলে আইইএলটিএস রাইটিং পরীক্ষায় একটি ভালো ব্যান্ড স্কোর পাওয়া সম্ভব হবে। তবে অনুশীলনের সময় বেশ কিছু জিনিস মাথায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, একটি প্যারা শেষ করে অন্য প্যারাতে যাওয়ার সময় দুইটি প্যারার মাঝে সামঞ্জস্য বজার রাখার চেষ্টা করতে হবে। এই বিষয়টিকে “কোহেশন এন্ড কোহেরেন্স” বলা হয় । বেশ কিছু কোহেসিভ ডিভাইস ব্যবহার করে সামঞ্জস্য বজায় রাখার এই কাজটি করা যায়। Firstly, Secondly, On the other hand, Apart from this, In Spite of, For example, However, Moreover ইত্যাদি কোহেসিভ ডিভাইসের উদাহরণ। গুগলে সার্চ করলে এরকম অসংখ্য উদাহরণ পাওয়া যাবে। অর্থ অনুযায়ী উপযুক্ত কোহেসিভ ডিভাইসের ব্যবহার আপনাকে প্রত্যাশিত ব্যান্ড স্কোর প্রাপ্তিতে অন্যদের থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে রাখবে। আরেকটি গুরুত্বপুর্ন বিষয় হল সঠিকভাবে বেশি বেশি ব্যাকরনিক নিয়ম প্রয়োগ করা। যেমন, সরল বাক্য ব্যবহার না করে জটিল বা মিশ্র বাক্য ব্যবহার করা, কন্ডিশনাল বা “শর্তাধীন” বাক্য বেশি বেশি ব্যবহার করা, সেকেন্ড বা থার্ড কন্ডিশনাল বেশি বেশি ব্যবহার করা ইত্যাদি। একইভাবে শব্দ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে একটু সচেতন হওয়ার চেষ্টা করুন। প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত হয় এমন শব্দ এড়িয়ে একটু অপরিচিত শব্দ ব্যবহার করুন। আইইএলটিএস রাইটিংয়ে পেন্সিল ব্যবহার করতে হয়। পেন্সিল ব্যবহার করলে লেখায় কাটাকাটি এড়ানো যেমন সহজ হয় তেমনি লেখাটি দেখতে এবং পড়তে সুন্দর লাগে। ইন্টারনেটে আইইএলটিএস রাইটিংয়ের অফিশিয়াল উত্তরপত্র পাওয়া যায়। সেটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে একটি খাতা আকারে বানিয়ে নিলে অনুশীলন করতে শুবিধা হবে। এতে করে মূল পরীক্ষায় কিভাবে জায়গা সংকুলান করতে হবে – তার ধারণা পাওয়া যাবে।
আইইএলটিএস রাইটিং এক্সামে বেশ কিছু বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। বলা হয়ে থাকে, প্রস্তুতি যেমনি থাকুক না কেন, শুধু এই সতর্কতাগুলো অবলম্বন করার মাধ্যমে ১ থেকে ২ ব্যান্ড স্কোর বাড়িয়ে ফেলা যায়। আপনাকে যখন রাইটিং এর প্রশ্নটি দেওয়া হবে, ততক্ষণে আপনি ৪০ মিনিটের লিসেনিং এবং ৬০ মিনিটের রিডিং পরীক্ষা শেষ করে ফেলেছেন। এই দুইটি অংশেই যে মস্তিষ্ক এবং মনোযোগের চূড়ান্ত প্রয়োগ হয়, সেটি বলা বাহুল্য। তাই তাড়াহুড়া না করে ২ – ৩ মিনিট সময় নিন। মস্তিষ্কটিকে পুনরায় কর্মক্ষম হতে একটু বিশ্রাম নিন। এই সময়টুকু চোখ বন্ধ করে রাখতে পারেন। আপনার রাইটিং পরীক্ষা সফলভাবে শেষ করতে এই অংশটুকুর গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রস্তুতির সময়েই টাইম ম্যানেজমেন্ট করে রাখুন। টাস্ক -১ এ কোন প্যারাগ্রাফে কতটুকু সময় লাগবে, সেটি মনে মনে সাজিয়ে ফেলুন। প্রশ্নে প্রদত্ত তথ্য/ উপাত্ত গুলোকে কিভাবে ভাগ করে বডি পারাগ্রাফে লিখবেন, সেটি ঠিক করে ফেলুন। কোন প্যারাগ্রাফে কি লিখবেন সেটি মনে মনে গুছিয়ে ফেলুন। কারন লেখার পর বার বার মুছে নতুন কিছু লিখতে গেলে, সেটি যেমন আপনার লেখার গঠনকে নষ্ট করবে, তেমনি পুর্বপরিকল্পিত সময় এর সাথে আগানো আপনার জন্য কঠিন হয়ে যাবে । তাই যথাযথভাবে পরিকল্পনা করুন। আপাতদৃষ্টিতে এই অংশটিকে সময়ক্ষেপণ মনে হলেও উপযুক্ত পরিকল্পনা করার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য । কোন প্রশ্নের উত্তর করতে যেয়ে এমন কিছু লিখবেন না যেটি প্রশ্নে সরাসরি বলা হয়নি বা চাওয়া হয়নি। টাস্ক -২ এর যেসব ক্ষেত্রে আপনাকে আপনার মতামত দিতে বলা হয়েছে, এমন জায়গা বাদে আর কোথাও নিজে থেকে বানিয়ে কিছু লিখবেন না। প্রশ্নে যেটি দেখানো হয়েছে সহজ কথায় সেটি বর্ননা করবেন। এর বাইরে কিছু লিখলে আপনার ব্যান্ড স্কোর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমাদের দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার কারনে অনেকের কাছে “বেশি লিখলে বেশি নাম্বার” এই জাতীয় মনোভাব থাকে। এই মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমস্ত শর্ত পূরণ করে অল্প কথায় যেটি জানতে চাওয়া হয়েছে, সেটি লিখুন। বরং বেশি লিখলে ভুল হওয়ার সম্ভবনা থাকবে বেশি, এটি মাথায় রাখুন। সবশেষে যে বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেটি হল রিভিশন দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখা। বেশি বেশি রিভিশন দিয়ে বানান ভুল বা ব্যাকরণগত ভুল শুধরে ফেলুন। শুধু শুদ্ধ বানান এবং সঠিক ব্যাকরন ব্যবহার করার কারনে ব্যান্ড স্কোর ০.৫ থেকে ১.০ বেড়ে যায়। তাই রিভিশন দেওয়ার প্রতি অত্যাধিক গুরুত্ব প্রদান করুন।
আপাতদৃষ্টিতে আইইএলটিএস রাইটিং এক্সাম বেশ কঠিন মনে হলেও, পর্যাপ্ত অনুশীলন , বেশি বেশি সতর্কতা অবলম্বন আর আপনার নিজের মেধা, প্রস্তুতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি পরীক্ষা কৌশল আপনাকে অবশ্যই আপনার প্রত্যাশিত ব্যান্ড স্কোর আনতে সহায়তা করবে । আপনার আইইএলটিএস যাত্রা সুখকর হোক, এই শুভকামনা রইল!